শিক্ষা প্রতিবেদক | ঢাকা দেশের বেসরকারি মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদের গ্রেড ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধন করে নতুন একটি পরিপত্র জারি করেছে সরকার। সংশোধিত এই আদেশে শিক্ষকদের নিয়োগের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার শর্ত এবং বেতন স্কেলের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক পরিপত্রটি প্রকাশ করা হয়।
জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় পরিবর্তন: পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (ভোকেশনাল, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা টেকনোলজি ও ডিপ্লোমা) এবং বেসরকারি মাদরাসার জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট পরিশিষ্টের আলোকে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদের পূর্বনির্ধারিত যোগ্যতা ও বেতন কাঠামোতে এই সংশোধন আনা হলো।
১০ম ও ১১তম গ্রেডের নতুন নিয়ম: নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, দুই ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষকেরা ভিন্ন ভিন্ন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত হবেন:
দশম গ্রেড (১৬,০০০—৩৮,৬৪০ টাকা): এই উচ্চতর গ্রেডে অন্তর্ভুক্তি বা নিয়োগের জন্য প্রার্থীকে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি, কৃষি অর্থনীতি, মৎস্য, পশুপালন, কৃষি প্রকৌশল, বনবিদ্যা, পরিবেশ বিজ্ঞান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, মৃত্তিকা বিজ্ঞান অথবা ডিভিএমসহ নির্দিষ্ট বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে। এর পাশাপাশি, ন্যূনতম তিন বছর মেয়াদী কৃষি ডিপ্লোমা বা সমমানের যোগ্যতা থাকলেও এই গ্রেডের জন্য বিবেচিত হবেন।
১১তম গ্রেড (১২,৫০০—৩০,২৩০ টাকা): উদ্ভিদবিদ্যা কিংবা প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে সাধারণ স্নাতক ডিগ্রি থাকলে প্রার্থীরা ১১তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত হবেন। তবে শর্ত থাকে যে, আবেদনকারীর পুরো শিক্ষাজীবনে একটির বেশি তৃতীয় বিভাগ, শ্রেণি কিংবা সমমানের জিপিএ/সিজিপিএ গ্রহণযোগ্য হবে না।
বিএড ডিগ্রিধারীদের বিশেষ সুবিধা: ১১তম গ্রেডের কোনো শিক্ষকের যদি ‘বিএড’ ডিগ্রি করা থাকে, তবে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১০ম গ্রেড অনুযায়ী উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা প্রাপ্য হবেন।
বয়সসীমা নির্ধারণ: নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে নতুন নিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ বছর। তবে যারা ইতিমধ্যে ইনডেক্সধারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই বয়সসীমা শিথিলযোগ্য বলে গণ্য হবে।
