আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
কঠোর পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছা আর বছরের পর বছর ধরে জমানো অল্প অল্প সঞ্চয় কীভাবে একজন মানুষকে তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ স্বপ্নে পৌঁছে দিতে পারে, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ১০৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা। ঐতিহ্যবাহী পায়েস ও জাউ বিক্রি করে তিল তিল করে জমানো টাকায় চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করে বিশ্বজুড়ে এক নজিরবিহীন আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তিনি।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার কেদিরি এলাকার বাসিন্দা এই বৃদ্ধার নাম ‘এমবা মারসিয়াহ’। চলতি ২০StartIndex২০২৬ সালের হজে অংশ নেওয়া লাখো লাখো মুসল্লির মধ্যে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ বা প্রবীণ হাজি। গত শুক্রবার (২৯ মে) সৌদি আরবের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘আরব নিউজ’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে।
পাত্রে রাখা সিকি-আধুলি থেকে হজের তহবিল:
১৯২১ সালের ১ জুলাই জন্ম নেওয়া মারসিয়াহ পেশায় ছিলেন একজন সাধারণ ক্ষুদ্র বিক্রেতা। তিনি স্থানীয় বাজারে ঐতিহ্যবাহী জাউ এবং পায়েস বিক্রি করতেন। হজ মিডিয়া সেন্টারকে দেওয়া এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পায়েস বিক্রির লভ্যাংশ থেকে প্রতিদিন অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে তিনি একটি বিশেষ পাত্রে রেখে দিতেন। এভাবে বছরের পর বছর ধরে চলে তাঁর এই নীরব সঞ্চয় সাধনা। মারসিয়াহ বলেন, “আমি প্রতিদিনের আয় থেকে একটু একটু করে টাকা জমাতাম। কোনো সময় টাকার ঘাটতি হলে আমার ছেলে বাকি অর্থ দিয়ে আমাকে সাহায্য করত।”
লক্ষণীয় বিষয় হলো, হজের পুরো টাকা জমতে থাকার সময়টিতে মারসিয়াহ তাঁর এই পরিকল্পনার কথা একদম গোপন রেখেছিলেন। এমনকি তাঁর কাছের কোনো আত্মীয় বা প্রতিবেশীরাও টের পাননি। পর্যাপ্ত অর্থ সঞ্চিত হওয়ার পরই কেবল তিনি বিষয়টি সবার সামনে প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে হজের জন্য নিবন্ধন করেন।
৬৭ বছরের মেয়ের সাথে পবিত্র মক্কায়:
বয়সের ভারে মারসিয়াহ বর্তমানে লাঠির সাহায্যে ধীর পায়ে হাঁটতে পারেন। তবে মক্কার তপ্ত আবহাওয়া ও হজের দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতায় যাতে কষ্ট না হয়, সেজন্য অধিকাংশ সময় তাকে হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে হয়েছে। গত ২২ মে সকালে তিনি সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে এসে পৌঁছান। দীর্ঘ এই পবিত্র সফরে তাঁর ছায়াসঙ্গী হিসেবে সাথে ছিলেন তাঁরই ৬৭ বছর বয়সী কন্যা মুইদাহ।
এ বছর ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা মোট ২ লাখ ২১ হাজার অনুমোদিত হজযাত্রীর কাফেলায় মারসিয়াহ ছিলেন ১১২তম সুরাবায়া এমবারকেশন গ্রুপের সদস্য। ওই গ্রুপের প্রধান আবিসওয়াতুন নাধিরোহ সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, ১০৪ বছর বয়সেও মারসিয়াহ শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ ও প্রাণবন্ত ছিলেন এবং হজের প্রতিটি ধর্মীয় আচার অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছেন।
