“আমার দ্বিতীয় স্ত্রী!”— অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফাঁসের পর মুখ খুললেন জামায়াত এমপি

লেখক:
প্রকাশ: ৩ দিন আগে

অনলাইন ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে নজিরবিহীন তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটিতে কক্ষে এক তরুণীর সাথে দেখা গেছে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে নেটদুনিয়ায় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা-সমালোচনা।

ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর দিনই—অর্থাৎ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিস্তারিত বার্তার মাধ্যমে বিষয়টির মূল রহস্য ও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন গাজী নজরুল ইসলাম।

“মেয়েটি আমার দ্বিতীয় স্ত্রী”— জামায়াত এমপি

ফেসবুক পোস্টে এমপি নজরুল স্পষ্ট জানান, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী, মরিয়ম।

তিনি জানান, চলতি বছরের ১৭ জুন পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এটি কোনো অনৈতিক বিষয় নয়, বরং ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের ভিডিও প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।

এই ঘটনার পেছনে পারিবারিক শত্রুতাকে দায়ী করে নজরুল বলেন:

“আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাছুম বিল্লাহ্ এবং তার মামা ওবায়দুল্লাহ্র মধ্যকার পুরনো শত্রুতার জের ধরেই এই ষড়যন্ত্র। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার এই ভিডিও প্রকাশ করে সম্মানহানির চেষ্টা করছে।”

এ বিষয়ে যারা ভিডিও ছড়ানো এবং ষড়যন্ত্রে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

যা বলছে জেলা জামায়াত

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতও। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, “আমরা উনার প্রথম স্ত্রীর সাথে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। পারিবারিকভাবেই আগে তাদের বিয়ে হয়েছে। বয়স ও পারিবারিক সুরক্ষার কথা চিন্তা করে শুরুতে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। তারা বিবাহিত দম্পতি হিসেবেই জীবনযাপন করছিলেন।”

সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস নিয়ে রহস্য

সম্মতি ছাড়া কিংবা অনধিকার চর্চা করে কক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ যেভাবে বাইরে আনা হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে।

জেলা জামায়াত সেক্রেটারি জানান, “তারা যেখানে অবস্থান করছিলেন, সেখানকার গোপন সিসি ক্যামেরা ফুটেজ কীভাবে বাইরে এল এবং কারা এটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিল—তা নিয়ে আমরা ভেতরে ভেতরে খোঁজখবর নিচ্ছি। মূল ষড়যন্ত্রীকে চিহ্নিত করা হবে।”